Header Ads Widget

Responsive Advertisement

Ticker

6/recent/ticker-posts

তারুণ্যে নৈতিক অবক্ষয়: কারণ ও প্রতিকার


                                                              ড. রওশন আরা ফিরোজ
                                                               অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ
                                                                ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


তারুণ্য মানবজীবনের এক বিস্ময়কর অধ্যায়। ব্যক্তির দৈহিক, মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের অনন্ত সম্ভাবনার সময় হচ্ছে যৌবনকাল। কবি নজরুল তার “ যৌবনের গান” প্রবন্ধে বলেছেন, “তরুণ নামের জয়মুকুট শুধু তাহারই যাহার শক্তি অপরিমিত। গতিবেগ ঝঞ্জার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ়, মধ্যাহ্নে মাত্রু প্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট যাহার ঔদার্য, অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা মৃত্যু যাহার মুঠিতলে”। বিখ্যাত মনিষী Benjamin Disraili এর ভাষায় Ò Almost everything that is great has been done by youth”

দুঃখের বিষয় অনন্ত সম্ভাবনার অধিকারী তারুণ্য আজ নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার। বাংলাদেশের যুবসম্প্রদায়ের একটি বিরাট অংশ আজ বিপথগামী হয়ে অপরাধ চক্রের শিরোমনি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানাবিধ আর্থ-সামাজিক, মানসিক ও পারিপার্শি¦কতার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলে যুবদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নৈতিক অবক্ষয়। যার পরিনতি স্বরুপ সমাজ-জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কিশোর-তরুণদের অপরাধের বীজ বিস্তৃত হচ্ছে। পত্রপত্রিকায় নিত্যনৈমিত্তিক খবর হচ্ছে যুবদের দ্বারা সংঘটিত চুরি, পকেট মারা, ডাকাতি, চাঁদাবাজী, ছিনতাই, খুন, কালোবাজারী, জুয়াখেলা, মারপিট, ভাংচুড়, মাদকাসক্তি ও ধর্ষণ ইত্যাদি। তাছাড়া রয়েছে মেয়েদের রাস্তাঘাটে টিটকিরি দেওয়া Street RomeoÕর দল। প্রশ্ন হলো যুবদের নীতিভ্রষ্ট আদর্শহীন আচরণের কারণ কি? যুবদের নৈতিক আদর্শচ্যুতিকরণ গুলো হচ্ছে: অসুস্থ ও অশান্ত পারিবারিক পরিবেশ, দারিদ্র, রুগ্ন ও অস্থির রাজনৈতিক অবস্থা, কুসংসর্গ, শহরায়ন, শিল্পায়ন, বেকারত্ব, বস্তি জীবনের পরিবেশ, বিদেশী অপসংস্কৃতির প্রভাব, লোমহর্ষকও যৌন আবেদনমূলক বই ও সিনেমা, সামজিক বৈষম্য, ন্যায় বিচারের অভাব, ক্রটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা, কুরুচিপূর্ণ অবাঞ্ছিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান, আইন-শৃখলার অবনতি এবং শিক্ষক, অভিভাবক ও নেতাদের নীতিভ্রষ্ট আচরণ ইত্যাদি।

আমাদের দেশে তরুণদের সঠিক দিক-নির্দেশ দেবার মতো সামাজিক ও রাজনৈনিক নেতৃত্বের বড় অভাব। অধিকাংশ নেতারা শেখায় সহিসংসতা, দুর্নীতি ও লুণ্ঠন। ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অনুশীলন নেই কোথাও। সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ, শুভ-অশুভ ও সুন্দর-অসুন্দরের মূল্য হয়েছে ভূলুণ্ঠিত। ন্যায় বিচার হয়েছে অন্তর্হিত। তথাকথিত মুরুব্বিদের অনৈতিক আচরণ, ঘুষ, দুর্নীতি তরুদের বিপথগামিতার অন্যতম কারণ। ন্যায়পরতার ভিত্তিতে মেধার মূল্যায়ন নেই। একটি উচ্চ ডিগ্রীধারী মেধাবী ছাত্র যদি দেখে তাকে ডিঙ্গিয়ে তার চাইতে শতগুণে কম যোগ্যতা সম্পন্ন মাথা মোটা তরুণটি মামার জোরে/টাকার জোরে/দলের জোরে চাকুরী পেয়ে গেল তার পক্ষে হতাশাগ্রস্ত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। অন্যায়ের প্রতিবাদে সে যদি সোচ্চার হয় তাকে দোষ দেয়া যায় না।
Ò Violence of Dis pair Õ  বলে একটি কথা আছে। আবার টাকার জোরে অর্থাৎ জমিজিরাত বিক্রি করে বা ধার করে বা মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে যে তরুণটি চাকুরী পেল তার প্রধান লক্ষ্যই হবে যে কোন উপায় সেই টাকা সুদে-আসলে উদ্ধার করা। এই তরুণের কাছ থেকে সুনীতির ব্যবহার আশা করি কিভাবে? অথবা যে যুবকের দল তাদের নেতাদের পেশী শক্তি প্রদর্শনের কাজে অথবা বাজনৈতিক ক্যাডার হিসাবে ব্যবহৃত হয় তার বিপথগামীতার জন্য দায়ী নেপথ্যে সুতা ঘুরানো সেই নীতিভ্রষ্ট নেতারা নয় কি?

পরিবার সমাজের প্রাচীনতম ক্ষুদ্রতম প্রতিষ্ঠান হলেও মানুষের জীবনে এর প্রভাব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর জম্মের পর তার মৌলিক চাহিদা মেটানো থেকে শুরুকরে তার সামাজিকরণ তথা তার ব্যাক্তসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হচ্ছে তার পরিবার। রবীন্দ্রনাথ তাঁর  Creative unity প্রবন্ধে বলেছেন, Ò The permanent significance of home is not in the narrowness of its enclosure, but in an eternal moral idea, একটি আদর্র্শ গৃহ পরিবেশ একটি যুবকের আদর্শ জীবন পরিকল্পনা প্রণয়নে অপরিহার্য। পরিবারে বাবা-মা, ভাই-বোন ও অন্যান্য সদস্যদের সাথে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ত্রিয়ার পরে শিশুর মূল্যবোধ ও নানরকম সামাজিক গুণাবলী বিকাশ ঘটে। রুশোর ভাষায় “শিশুর স্বাভাবিকভাবে সৎ হয়ে জন্মায়। কিন্তু সমাজ ও পরিবেশের সংস্পর্শে এসে তারা অসৎ হয়।” দুঃখের বিষয় দারিদ্র. শহরায়ন, শিল্পায়ন, আধুনিকায়ন, আর্থ-সামাজিক অবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন, অপসংস্কৃতির প্রভাব, জীবন যাপনের বহুমুখী জটিলতার ফলে সামাজিক ও নৈতিক বিদ্যাপিঠের কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ পরিবার আজ চরম সংকটের মুখোমুখি। যুবকের ইতিবাচক নৈতিক বিকাশে ব্যর্থ পরিবারের ঘরে ঘরে বাড়ছে দ্বন্দ্বসংঘাত আর পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা। সন্তানদের মধ্যে বাসা বাঁধছে মাদকাসক্তি সন্ত্রাসের রক্তবীজ। পরিবার ও সমাজের শান্তি সংহতিতে ধরছে চরম ফাটল। বিপদগামী তরুণরা হয়ে উঠেছে সমাজের হুমকি স্বরুপ। পরিবারের গুরুত্ব অনুধাবন করেই আজ পুথিবীর অনুন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশগুলোতেও চালু হয়েছে Family life education,অর্থাৎ পরিবার জীবন শিক্ষা।“FLE touches every aspect of family life and social living, inter personal relationship within and outside the family as will as value and attitudes relating to such matters as sex marriage childbearing and other psycho biological factors relating to family life and will being. It is a process of enabling people realize their fullest potential in the family–a training manual on FLE for youth, CYP Asia Center, 1998”

 মাদকাসক্তি যুবদের অন্যতম সমস্যা। মাদকাসক্ত  যুবই পরবর্তীতে চুরি , ছিনতাই, খুন, ধর্ষন নানাবিধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারী জনসংখ্যার ১৬%বয়স১৫ বৎসরের নিচে। ৮২%,১৫ থেকে ৩০ বৎসরের মধ্যে অর্থাৎ কিশোর ও তরুন মাদকাসক্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেন এই মাদকাসক্তি?  FLE touches every Common wealth Youth programmer এর “Training Manual of healthy living without drugs- a peer approach”বইটিতে তরুনদের মাদকাসক্তির প্রধান যে Risk factor গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে তা হচ্ছে পারিবারিক বিশৃঙখলা, বাবা মার অবহেলা, অনৈতিক উশৃঙখল জীবন যাপন, বিদ্রোহী ও বে- পরয়া মনোভাব, একাকিত্ব বা বিচ্ছিন্নতা, হতাশা ব্যর্থতা, অন্ধ¯েœহ, অতিরিক্ত কড়াশাষন, পারিবারিক পরিমন্ডলে মাদকের প্রভাব, অসৎসঙ্গ, মাদকের প্রতি অহেতুক কৌতুহল ও এর কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা। প্রশ্ন দাঁড়ায় এক্ষেত্রে একটি পরিবারের ভূমিকা ও দায় -দায়িত্ব কি হওয়া উচিত? অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ছাড়াও সন্তানের আতœমর্যাদা বৃদ্ধি (self-esteem) সৃজনশীল সম্ভাবনার বিকাশ, স্নেহ-মমতা, নিরাপত্তা, সুস্থ চিত্ত বিনোদন, স্বতঃস্ফুর্ত আনন্দঘন ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি ও সদস্যদের মধ্যে আন্তঃসর্ম্পকের উন্নয়ন বৃদ্ধি। বেকারত্বের ফলে হতাশা সৃষ্টি না করে তার জন্য আত্মকর্ম সংস্থানের অনুকুল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা।

অনেক ধনী পরিবারের সন্তান যাদের বেকারত্ব বা আর্থিক সমস্য নেই তারাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে কারণ তাদের পরিবারিক আন্তঃসম্পর্ক অত্যন্ত জটিল ও সংঘাতপূর্ণ। পরিবার তার জন্য  কারাগার স্বরূপ । মা-বাবার সঙ্গে আদৌ কোন উঠাবসা নেই। কথায় আছে, Ò Money can buy a house but not a home Ó হাতে কাঁচাটাকার প্রাচুর্য ও বলগাহীন জীবন তাকে নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়। মা-বাবার অন্ধ স্নেহও অতিবৃষ্টির মতোই সর্বনাশা। পাড়ার প্রতিবেশী মঙ্গলাকাঙ্খী হয়ে কোন ছেলের অনৈতিক কার্যকলাপ দেখে মা-বাবাকে জানালে অনেক ক্ষেপে যান। তাঁরা সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত আস্থা ও অন্ধবিশ্বাসজনিত আহম্মকের স্বর্গে বসবাস করে পরবর্তীতে অবশ্য চোখে অন্ধকার দেখেন।
অতিরিক্ত  শাসন ও কড়াকড়ি আবার ‘বজ্র আটুনি ফস্কা গেরোর’মতই  ভয়াবহ । অনেকের ধারনা কিশোর ও যুবরা খেলাধুলা, শিল্পচর্চা, নাটক, ছবি আঁকা, সুস্থ সৃজনশীল ও সমাজের সেবামুলক কাজে অংশ নেবেনা, শুধুই পড়াশুনা করবে। সামাজিক জীবন বিবর্জিত কৃত্রিম খোলেসে এভাবে তাদের আটকে রাখলে হঠাৎ বাইরে যাবার পথ পেলে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো বে-পরোয়া ও বলগাহীন হয়ে উঠে । একটু সুযোগ পেলেই এরা উশৃঙ্খল জীবনে জড়িয়ে পড়ে। না বলার সময় থাকেনা তখন । শাসন হওয়া উঠিত “ মুক্ত শৃঙখলা অর্থাৎ স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলার এক সুষম সমন্বয়।” সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে রাজশাহীতে নেশায় বখে যাওয়া তরুনের নৃশংসতা’ শিক্ষক পিতাকে হত্যা, ফাঁস করার হুমকি দেয়ায় বন্ধুকে খুন করা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার জানান ঐ পরিবারে ছিল মারাতœক অশান্তি। বাবাছেলেকে শাসন করতেন। কিন্তু মা আশকরা দিতেন। পরিনতিতে তিনি হলেন বিধবা, খুনের দায়ে যুবক সন্তান আসামী।

যুবদের  নৈতিকতার উন্নয়নে পরিবারের যা করনিয় তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে পারিবারিক সম্প্রিতি বৃদ্ধি করা। শৈশব থেকে সন্তাদের মধ্যে সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো। পিতা-মাতা ও অভিভাবকের জীবনাদর্শ নৈতিক হওয়া বাঞ্ছনীয় সন্তানদের দুর্বলতা ও ব্যার্থতাকে সহানুভুতিশীল দৃষ্টিতে দেখে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে মানষিক চাপ দুর করা, ভাল বন্ধু বান্ধবের সাহচর্যে আছে কিনা লক্ষ রাখা। পরিবারের সহিংশতা নিয়ন্ত্রন, সন্তানদের মাদক ও অন্যান্য অসৎ প্রস্তাবে না বলার দক্ষতার উন্নয়ন। সমাজের দৃঢ় ক্রমবর্ধমান  ‘ইদুর দৌড়ের’ দৌরাত্বে ও কালো টাকার ফলে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়া, ভূঁইফোর বড়লোকের ছেলেমেয়েদের সাথে মিশে তাদের সাথে পল্লা দেবার চেষ্টা না করারর জন্য সন্তানদের সুস্থ সবল জীবনের প্রতি অভিযোজনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। অর্থলোভে ধনীদের নেশার সঙ্গী বা ক্রীড়ানকনা হবার আহ্বান জানানো। মাদকের সহজপ্রাপ্তি বন্ধ করার জন্য আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী শক্তির কঠোর পদক্ষেপ অবশ্যই প্রয়োজন।

শহরায়ন যুবদের নৈতিক অবক্ষয়ের আরেকটি কারণ। প্রতি বৎসর হাজার হাজার ভুমিহীন ছিন্নমূল গ্রামীন যুবরা দারিদ্রদের টানা-পোড়নে জীবিকা অর্জনের আশায় শহরে এসে ভাসমান নাগরিক হিসেবে বস্তিতে আশ্রয় নেয়। বস্তিগুলোকে প্রধানত: ‘অপরাধ চক্রের ঘাঁটি’ বা পকেটমার, ছিনতাই মাদক পাচার ও জুয়ার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বলা চলে। গ্রামের সহজ- সরল সুবোধ ছেলে শহরেও বস্তিতে এসে অপরাধ চক্রের পাল্লায় পড়ে অচিরেই ‘দক্ষ মান্তান’ হয়ে ওঠে। যুবদেরও শহরায়ন রোধের জন্য গ্রামে বসবাস উপযোগি পরিবেশ উন্নয়ন, অব্যহৃরিত ‘মজা পুকুর’, খাস জমি ইত্যাদি নিয়ে সমবায়ে ভিত্তিতে ‘ যুব প্রকল্প’ গ্রহণ বাংলাদেশ সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন কেন্দ্রে প্রশিক্ষনে উদ্বুদ্ধ করে আতœকর্ম সংস্থানে নিয়োজিত করলে শহরে বস্তি বিস্তার ও নৈতিক অবক্ষয় রোধ হতে পারে।

পরিবারের পরেই শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে- যুবদের সামাজিকীকরনের একটি অন্যতম মাধ্যম বলা চলে। কিন্তু দুঃখের বিষয় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো মূল্যবোধের সাথে প্রায় সম্পর্কহীন হয়ে সার্টিফিকেট সর্বস্ব পুঁথিগত বিদ্যার কারখানা হিসেবে পরিগনিত হচ্ছে । বিদ্যালয়ে তোতাপাখির মত মুখস্ত বিদ্যার প্রভাবে শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটেনা বললেই চলে। পাঠ্যক্রমের মধ্যে মহাপুরুষদেও জীবনাদর্শ, নীতিকথা, ভালমন্দ, সত্যমিথ্যার বিষয় গুলো আগের মত নেই। ভাল ছাত্রের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা আছে । কিন্তু ভাল আচারণ ও সমাজের কল্যাণকর কাজের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা নেই। বড়দের সম্মান শ্রদ্ধা করা, ছোটদের স্নেহ, বন্ধুদের প্রতি সহমর্মিতা sharecare এই মূল্যবোধে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। দার্শনিক ডিউই শিক্ষার লক্ষ্যের সঙ্গে  মূল্যবোধের অতি নিবিড় সর্ম্পকের কথা উল্লেখ করেছেন। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে আদর্শ বিচ্যূতির  উদাহরণ রয়েছে। আদর্শ ছাত্র তৈরী করতে হলে আদর্শ শিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘শিক্ষা সমস্যা’ প্রবন্ধে বলেছেন “শিক্ষকই যদি জানেন তিনি গুরুর আসনে বসিয়াছেন, যদি তাঁহার জীবনের দ্বারা ছাত্রের মধ্যে জীবন সঞ্চার করিতে হয়, তাঁহার স্নেহের দ্বারা কল্যাণ সাধন করিতে হয় তবেই তিনি গৌরব লাভ করিতে পারেন, তবে তিনি এমন জিনিষ দান করিতে বসেন যাহা পণ্যদব্য নহে, যাহা মূল্যের অতীত, সূতরাং ছাত্রের নিকট হইতে শাসনের দ্বারা নহে, ধর্মের বিধানে, স্বভাবের নিয়মে তিনি ভক্তিগ্রহণের যোগ্য হইতে পারেন”। পরিতাপের বিষয় এই যে বাংলাদেশে এখন “কোচিং সেন্টার” ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক ছাত্রের সর্ম্পক “যান্ত্রিক লেন-দেন” পর্যায়ে চলে গেছে। রবীন্দ্রনাথের আক্ষেপ,” এই শিক্ষা-দোকানদারির নীচতা হইতে দেশের শিক্ষক ও ছাত্রগণকে কি আমরা রক্ষা করিবনা?”

সততা, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, সেবার আদর্শ, মানবতাবোধের মূল্যবোধগুলো বাস্তব উদাহরণের সাথে তরুণ ছাত্রদের মনে গেঁথে দেয়া প্রয়োজন। ছাত্র-শিক্ষক, শিক্ষক-অভিভাবক, ছাত্র-অভিভাবকের মধ্যে মুক্ত আলোচনা, বির্তকসভা ও সমাজের শুভ মূল্যবোধের উপযোগিতা অনুধাবন করা প্রয়োজন। জাতীয় দিবস গুলো উদযাপন করার মাধ্যমে তরণদের মনে দেশপ্রেম জাগানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব। বিদ্যালয় গুলোতে কৃত্রিম উপায়ে শৃঙ্খলা বজায়ের কঠোর উৎপীড়নের সৃজনধর্মী শিক্ষা সূচির মাধ্যমে শিশু কিশোরদের বির্তক, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কল্যান মূলক কাজে দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে স্বতঃপ্রনোদিত শৃঙ্খলা শেখানো। বিখ্যাত শিক্ষা দার্শনিক মেন্টেসরি গতানুতিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকে বলেছেন “একরাশ ঝকঝক প্রজাপতিকে যেন সারি সারি পিন দিয়ে গেঁথে রাখা হয়েছে।” এব্যপরে ছাত্রদের নৈতিক উন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষক নিজে আদর্শ নাগরিক না হলে তাঁর কাছ থেকে যোগ্য শিক্ষার্থী তথা উপযুক্ত নাগরিক গড়ে তোলার কথা ভাবাই বাতুলতা মাত্র। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্কাউটিং, গালর্স গাইডিং ও ইঘঈঈ তে যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী অংশ নিয়েছে নিঃসন্দেহে তারা অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের চাইতে অনেক দায়িত্বশীল ও সমাজ সচেতন। নৈতিক জীবনের বিকাশ ও চরিত্র গঠন শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।


সক্রিয়তা ভিত্তিক যুব সংগঠনের ভূমিকা

তারুণ্যের অদম্য শক্তির সুষ্ঠু বিকাশের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক যুব সংগঠনে যুবদের সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। যুবদের চিত্ত বিনোদন, সৃজন মূলক প্রতিভার বিকাশ, ইতিবাচক সমাজ কল্যাণমূলক কাজে অংশ গ্রহণ, নেতৃত্বের বিকাশ, নিয়মানুবার্তিতা, শৃঙ্খলা, টিম-ওর্য়াক, সেবার আদর্শ যুব সংগঠনের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে। এক কথায় একটি ভালো যুবসংগঠন একটি যুবকের দৈহিক, আত্মিক, মানসিক ও আর্থ-সামাজিক বিকাশে যথেষ্ট সহায়তা করে থাকে। বিদ্যালয়ের সীমিত পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে যুবক পুথিগত বিদ্যা লাভ করে। যুব সংগঠন গুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকারেু সম্পৃক্ত হয়ে তাদের সুষম মানসিক বিকাশ ঘটে। জনকল্যান মূলক কাজে অংশ গ্রহণ করে যুবদের দৃষ্টিভঙ্গি উদার হয় ও মানসিক দিগন্তের প্রসার ঘটে।

মহানবী হযরত মুহম্মদ (দঃ) ৫৮৪ খৃষ্টাব্দে মাত্র ১৪ বৎসর বয়সে চাচা হযরত যুবায়ের (রাঃ) ও কয়েক জন যুবককে সাথে নিয়ে অসহায় ও দুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে এবং বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠান দীপ্ত অঙ্গীকার নিয়ে হিলফুল ফুজুল নামে একটি সেবা মূলক সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে তিনিই বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার নেতৃত্ব দেন।


যুব সংগঠনের নেতা পর্যায়ের সদস্যদের নেতৃত্ব ও গোষ্ঠি উন্নয়নের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অপরিহার্য। বর্তমানে বাংলাদেশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের “যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর” সাভারে অবস্থিত “জাতীয় যুবকেন্দ্র”টি নিয়মিত ভাবে যুব সংগঠনের সদস্যদের জন্য এ ধরণের প্রশিক্ষণে ব্যবস্থা করছে। এছাড়া ব্রাক, প্রশিকা, করিতাস, যুব একাডেমী ও কিছু যুব সংগঠন বিচ্ছন্নভাবে নেতৃত্বমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।

বেকারত্ব মোচনে কারিগরী ও দক্ষতামূলক শিক্ষার প্রসার

বাংলাদেশ সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিষয়ের যথা হাঁস-মুরগী, মৎস্য, গবাদী পশু পালন, কম্পিউটা, রেডিও, টিভি, ভিসিপি মেরামত, ইলেকট্রিক্যাল রেফ্রিজারেশণ এন্ড এয়ার কন্ডিসনিং, দপ্তর বিজ্ঞান, ব্লক-বটিক, পোষাক তৈরী, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক ইত্যাদিতে প্রশিক্ষণের সু-ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে ৬৪টি আবাসিক যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। দেশের বেকার যুবদের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করে আতœ-কর্ম সংস্থানের বর্তমান ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। যুবদের দারিদ্র বিমোচনের ব্যবস্থা না করে নীতিকথা কপচিয়ে তাদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা অসম্ভব। এব্যাপারে অভিভাবকদের ও সন্তানদের সাধারণ উচ্চ শিক্ষার গড্ডালিকা প্রবাহে ভাসিয়ে না দিয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা বাঞ্ছনীয়।

আত্মকর্মী যুবদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার ব্যবস্থা

গ্রাম ও শহরতলীর দরিদ্র যুবদের পক্ষে তাদের তৈরী পণ্য বাজারজাত করা খুবই কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে ‘দালাল’ ও ফড়িয়াদের হাতে পড়ে নাম-মাত্র মূল্য তারা তাদের হস্তশিল্প বিক্রি করে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়পর্যায়ে সরকারি উদ্যোগে সেলস সেন্টারের ব্যবস্থা করা অতি জরুরি।

সহজশর্তে ক্ষুদ্র-ঋণ প্রদানে ব্যবস্থা

সরকারি পর্যয়ে বেকার যুবদের জন্য যে ক্ষ্রদ্র ঋণের ব্যবস্থা রযেছে তার শর্ত অনেক জটিল যা ভূমিহীন যুবকের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। প্রশিক্ষিত যুবদের জন্য শর্ত গুলো আরও সহজ করা প্রয়োজন।

সফল যুবকর্মীদের জীবন কথা নিয়ে ডকৃমেন্টরী ফিল্ম করে বহুল প্রচার; টেলিভিশনের একজন সখিনার সাফল্য কথা বহু বেকার যুব-মহিলাকে উদ্বদ্ধ করেছে। গ্রামে গঞ্জে এগুলো প্রচারের ব্যবস্থা করলে যুবরা চাকরীর সোনার হরিণের পেছনে না ঘুরে প্রশিক্ষণ নিয়ে আতœকর্মী হবে।

যুবদের নৈতিকতার উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা

তরুন সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে সংবাদপত্র, রেড়িও, টেলিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সুপরিকল্পিত ইতিবাচক বাস্তব-কাহিনী, সফল প্রকল্প, আদর্শ যুবকের জীবন-কথা ইত্যাদি গঠনমূলক প্রোগ্রাম তরুণ সমাজে ইপ্সিত মূল্যবোধ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের বির্তক প্রতিযোগিতা যুবদের বৌদ্ধিকজ উন্নয়নে যথেষ্ট সহায়তা করছে। কচি-কাঁচার মেলা, প্রথম আলোর বন্ধুসভা, সংবাদের কেন্দ্রীয় খেলাঘর, ইত্যাদি পত্রিকা কেন্দ্রিক কিশোর ও যুব আন্দোলন, মাদক বিরোধী, এসিড নিক্ষেপ, সন্ত্রাস ও যৌতুক বিরোধী এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনে বিশেষ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাঈদের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র তরুণদের মধ্যে এডিস মশা নিরোধের যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তাতে প্রমাণ হয় যে শিক্ষক অভিভাবকগণও ইচ্ছে করলে যুবদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা, কর্তব্য পরায়নতার বীজ রোপণ করতে পারেন যার ফলে যুবরা ধ্বংসাত্বক কাজ থেকে বিরত থাকবে।

সেবামূলক শ্রেষ্ঠ যুবসংগঠন গুলোকে পুরস্কার প্রদান

সন্ত্রাস, মাদক ও সমাজবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কল্যাণধর্মী, ইতিবাচক সমাজসেবার কাজে বিশেষ অবদান রাখার জন্য যুবসংগঠন গুলোকে পুরস্কার দিয়ে উৎসাহিত করা উচিত।


অশ্লীল ছবি ও পোস্টার প্রদর্শন বন্ধ করা

শহরে, গ্রামে গঞ্জে পর্ণোগ্রাফি পত্রিকা, অবৈধ বুফিল্ম প্রদর্শন, অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ সিনেমার পোস্টার যুবদের বিপথগামিতার আরেকটি কারণ। এসব নৈতিকতা বিরোধী কার্যকলাপ আইন রক্ষাকারীদের নাকের ডগায় ঘটছে। অথচ কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে এসব অপ-সংস্কৃতির বাহনগুলো বন্ধ করা উচিত।

দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন ও আইনের যথাযথ প্রযোগ

নীতি ভ্রষ্ট তরুণ ও তাদের পেছনে মদদদানকারী মুরুব্বীদের গুরুতর অপরাধের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আইনের সুষ্ট প্রয়োগের অভাবে পেশাধারী অপরাধী যুবদের দুঃসাহস বেড়েই চলছে। রাজনৈতিক দলের ছাত্র-ছায়ায় অথবা টাকার জোরে দাগী অপরাধীকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। অপরাধীর আশু শাস্তি প্রয়োগ অন্যদেরও সংশোধনে সাহায্য করবে।

যুবদের জন্য নির্মল চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা

ঢাকা শহরে প্রায় এলাকাতেই চোখ ধাঁধানো ঝলমলে সুপার মার্কেটের সারি যার প্রয়োজন নিঃসন্দেহে কম। ধনীদের জন্য সাজানো এ পসরা যুবদের কোন কাজে আসে না। খেলাধুলার জন্য মাঠ নেই। মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ ঢাকা ও অন্যান্য শহরে যুবদের জন্য আদর্শ Community Center গড়ে তুলতে পারেন। সেই সেন্টার গুলোতে যুবদের জন্য অভ্যন্তরীণ খেলাধূলার সামগ্রী, তথ্যমূলক প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন, বইপড়া ও কাউন্সেলিং’র ব্যবস্থা থাকলে যুবরা তাদের অফুরন্ত অবসর সময় মার্কেটের সামনে জটলা না করে এখানে ব্যয় করতে পারে। সিঙ্গাপুরে ১৯৭৮-৭৯তে মাদকাসক্ত ছিল একটি বিরাট সমস্যা। যুবদের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আজ তা কাটিয়ে ওঠেছে। সেদেশে Ò Community Center Ó গুলোতে যুব-বৃদ্ধ সবার উপযোগী আকর্ষণীয় কার্যক্রম রয়েছে।

যুবদের জন্য নিঃস্বার্ধ, ত্যাগী, কর্মঠ সাহসী রোল মডেল প্রয়োজন

আজকের নির্লজ্জ তোষামোদকারী, দূর্নীতি পরায়ন ক্ষমতা লোভী, অন্ধ, দলাশ্রয়ী লোভী ব্যক্তিদের কুলষিত স্রোতের আবর্তে পড়ে নির্ভীক, নির্লোভ, সত্যাশ্রয়ী, দক্ষ, জ্ঞানী ও যুবদের সত্যিকারের হিতাকাঙ্খী ব্যক্তিরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। তাদের একতাবন্ধ হওয়া প্রয়োজন। যুবদের
friend, philosopher and guide রূপ ত্যাগী Role Model দের এগিয়ে আসতে হবে। রবীন্দ্রনাথ প্রায় শতবর্ষ আগে এ সমস্যা অনুধাবন করেছিলেন তাঁর ‘শিক্ষা’ প্রবন্ধে তাই বলছেন, “আমাদের দেশে যে জ্ঞানী, গুণী, ক্ষমতা সম্পন্ন লোক জন্ম গ্রহণ করেনা তাহা নহে; কিন্তু তাঁদের  জ্ঞান, গুণ ও ক্ষমতা ধরিয়া রাখিবার কোন ব্যবস্থ আমাদের দেশে নাই। তাঁহার চাকরী করেন, ব্যবসা করেন, রোজগার করেন, পরের হুকুম মানিয়া চলেন, তাহারর পরে পেনসন লইয়া ভাবিয়া পাননা কেমন করিয়া দিন কাটিবে। এমন প্রত্যহ কত রাশি রাশি সামর্থ্য দেশের উপর দিয়া গড়িইয়া, বাহিয়া, উঠিয়া চলিয়া যাইতেছে। ইহা আমারা নিশ্চয় জানি, বিধাতার অভিশাপে আমাদের দেশে যে শক্তির চিরন্তর অনাবৃষ্টি ঘটিয়াছে তাহা নহে-দেশের শক্তিকে দেশের কাজে ব্যবহার লাগাইবার, তাহাকে কোথাও একত্রে সংগ্রহ-করিবার কোন বিধান আমরা করি নাই”। আজ যুবদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে সত্যিকারে কল্যাণকামী, দেশ প্রেমিক, জ্ঞানী সৎ ও কর্মীব্যক্তিদের সমষ্টিগত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আমাদের এ অফুরন্ত মানবশক্তিকে আমরা নষ্ট হতে দিতে পারিনা। আমি আশাবাদী যে বাংলাদেশের শহরে গ্রামে-গঞ্জে এখনও অনেক ত্যাগী যুবক ও যুবসংগঠন রয়েছে, যাদের নৈতিকতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। শ্রম, ত্যাগ ও মেধা দিয়ে তাদের ঐক্যবন্ধ প্রচেষ্ঠায় এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দু’একটি নাম স্মতর্ব্য যেমন কুমিল্লার বিবির বাজার ‘ঘিণলাটুলি মহিলা সমিতি’ ঢাকার ফরিদাবাদের মৈত্রী, ডে বাংলাদেশ, ধামরাইয়ের সূর্যোদয় মহিলা সমিতি, শরিয়তপুরের ঈশা খাঁ সংসদ, যশোরের দশা, পিরোজপুরের ‘পরাগ’ পাবনায় ‘সেবা’ রাজশাহীতে ‘জননী গ্রন্থাগার’ ফেনীর ‘তরুন সংঘ’ কক্সবাজারের ‘অংশীদার, বান্দরবানের অনন্যা, টেকনাফে ‘নাফ যুবসংঘ’, এরূপ শত শত যুবসংগঠন যারা সমাজে আলোক বর্তিকা জ্বালিয়েছে নিজেদের সংঘবদ্ধ চেষ্ঠায় এবং যুবদের নৈতিক রোধ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

যুবদের নৈতিক অবক্ষয় রোধের দায়িত্ব গোটা সমাজের শিক্ষক, অভিভাবক, সুশূল সমাজ, রাজনীতিবিদ, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সকল পেশাজীবি ব্যক্তির এ ব্যাপারে নিঃস্বার্থ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস, বেকারত্ব এই তিন মূল সমস্যার আশু সমাধানে সংঘবদ্ধভাবে এগিয়ে না এলে এই ভয়াবহ বিপজ্জনক (Youth at risk)  ও ঝুকিপূর্ণ অঙ্গিস্ফুলিঙ্গ তথা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দ্বারা গোটা সমাজের ধ্বংস অনিবার্য। Franklin D. Roosevelt এর ভাষায় "Flaming youth has become a flaming question to know what we may propose to do about a society that hurts so many of them".

Post a Comment

0 Comments

যে দোয়া পড়া সুন্নত কঠিন বিপদ থেকে বাঁচতে